কমিউনিটি ০২ জুন ২০২৬

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

নিউজরুম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’—অভিজ্ঞতা ও সমসাময়িক ইস্যুতে খোলামেলা মতবিনিময়

post

টিভি নাইনটিন লন্ডন ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলী বলেছেন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা হাইকমিশনার ও প্রেস মিনিস্টারের পদে খুব শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রবাসীরা বহুল প্রত্যাশিত ‘প্রবাসী কার্ড’ হাতে পাবেন।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় অনুষ্ঠান ‘নিউজরুম টু প্রাইম মিনিস্টার’স অফিস’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৩১ মে রোববার বিকেলে ক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা থেকে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ড. সালেহ শিবলী। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা, তথ্যপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের যোগাযোগ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আকরাম হুসাইনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। লন্ডন ছাড়াও বার্মিংহাম, লুটনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

একসময় যুক্তরাজ্যে সাংবাদিকতা করা ড. সালেহ শিবলী নিজেও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করার পাশাপাশি চ্যানেল এস-এর এক্সিকিউটিভ এডিটরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক সাংবাদিকই ছিলেন তাঁর সাবেক সহকর্মী ও সহযোদ্ধা।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী সাংবাদিকরা বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ড. সালেহ শিবলী বলেন, “দেশে ও বিদেশে বসবাসরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কোনো প্রবাসী যদি অন্যায় বা বৈষম্যের শিকার হন, তবে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

”তিনি আরও বলেন, সরকারের বর্তমান সময়ে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা অন্যায্যভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। একইসঙ্গে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার বিচার জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসী সাংবাদিকদের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, “গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

”অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সৈয়দ নাহাস পাশা, মুহাম্মদ জুবায়ের, সিনিয়র সহ-সভাপতি তাইসির মাহমুদসহ ক্লাবের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো আলোচনা করেন।

প্রাণবন্ত আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও প্রশ্নোত্তরে ভরপুর অনুষ্ঠানটি সাংবাদিকদের জন্য ছিল এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মঞ্চ, যেখানে একজন সাংবাদিকের নিউজরুম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত যাত্রার গল্প উঠে আসে সরাসরি তাঁর নিজের কণ্ঠে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner