টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নির্বিঘ্নে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ জাতীয় ও উৎসবমুখর করতে ঢাকা মহানগরীকে নয়টি সেক্টরে ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে ঢাকা ডিএমপি’র পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলসমূহ ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল দ্বারা সুইপিং করা হবে। আজ রোববার রমনা বটমূলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মো. সরওয়ার বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির টানে নর্ববষের উচ্ছ্বাসে ঢাকা মহানগরবাসী রমনা পার্ক, শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাহাদুরশাহ পার্ক, মিরপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতির ঝিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হবে।বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও চারুকলা অনুষদ আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ অন্যান্য সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সোয়াট, অশ্বারোহী পুলিশ, কে-৯ ইউনিট, বোমা নিস্ক্রয়করণ ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান, ডিবি ও সিটিটিসি মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে মোট ১৪টি স্থানে ব্যারিকেড ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা করা হবে।
মো. সরওয়ার আরও বলেন, অনুষ্ঠানস্থল ও শোভাযাত্রার রুটসমূহকে সিসি ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা ও ড্রোন ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠান স্থলের চারপাশে ও শোভাযাত্রার রুটে পর্যাপ্ত পরিমাণ পিকেট, ফুট পেট্রোল ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ওপর থেকে মনিটরিং করার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হবে এবং রুফটপে ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
ডিবি ও সিটিটিসি’র পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্যগণ সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানস্থলে হকার প্রবেশ করে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেজন্য বিশেষ টিম কাজ করবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ দল মোতায়েন থাকবে। অনুষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তায় অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। সেখানে মাইকিং ব্যবস্থা থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও সাইবার পেট্রোলিংসহ নববর্ষ কেন্দ্রিক অপপ্রচার রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো অপতৎপরতা মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা করবেন। অনুষ্ঠানস্থলে কোনো প্রকার মুখোশ, ব্যাগ, ধারালো বস্তু ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে এবং অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে হবে। কোন ধরনের ফানুস বা আতশবাজি ফুটানো যাবে না এবং শব্দ দূষণ হয়, এ রকম কোনো বাঁশি ব্যবহার করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫মিনিটে থেকে সকাল ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে তিনটি গেইট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে। গেইটগুলো হলো— অরুনোদয় গেইট, রমনা রেস্তোরাঁ গেইট ও শিশু পার্কের বিপরীতে অস্তাচল গেইট। অনুষ্ঠান থেকে কেবল বের হওয়ার জন্য দুটি গেইট ব্যবহার করা যাবে। গেইটগুলো হলো— উত্তরায়ণ গেইট ও বৈশাখী গেইট।
এ ছাড়া তিনটি গেইট-শ্যামলীমা গেইট, স্টার গেইট এবং বৈশাখী ও অস্তাচল গেইটের মাঝামাঝি নতুন গেইট প্রবেশ ও বাহির উভয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে। হর্টিকালচার গেইট প্রবেশ গেট হিসেবে থাকবে। ছায়ানটের অনুষ্ঠানে শিল্পী-কলাকৌশলী, সাংবাদিক, পুরুষ ও নারী দর্শনার্থী পৃথক পৃথক গেইট দিয়ে প্রবেশ ও বাহির হবেন। সবাইকে তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
রমনা পার্ক বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ গেইট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে। বিকাল ৫টার পর সকল গেইট বাহির গেইট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অনুষ্ঠানস্থলসমূহে সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য ভোর ৫টায় গেইট খোলা থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে রমনা পার্ক ত্যাগ করতে হবে।
বৈশাখী শোভাযাত্রা ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ থানা মোড়-টিএসসি ক্রসিং (রাজু ভাস্কর্য)-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন-তিন নেতার মাজার-দোয়েল চত্বর ক্রসিং (ইউটার্ন)-বাংলা একাডেমি-টিএসসি হয়ে পুনরায় চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রার পুরো রুটটি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। শোভাযাত্রার পাশ থেকে বিকল্প পথে শোভাযাত্রায় সমবেত হওয়া যাবে না।
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত, রমনা পার্ক (রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশ এলাকাসমুহে রাস্তা বন্ধ ও রোড ডাইভারশন দেওয়া হবে।
ড্রাইভারশন বা ব্যারিকেড পয়েন্টগুলো হলো— ১. বাংলামোটর ক্রসিং ২. হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং ৩. পুলিশ ভবন ক্রসিং ৪. সুগন্ধা ক্রসিং ৫. কাকরাইল চার্চ ক্রসিং ৬. কদম ফোয়ারা ক্রসিং ৭. হাইকোর্ট ক্রসিং (পশ্চিম) ৮. শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং ৯. রোমানা ক্রসিং ১০. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ১১. জগন্নাথ হল ক্রসিং ১২. ভাস্কর্য ক্রসিং ১৩. নীলক্ষেত ক্রসিং ও ১৪. কাঁটাবন ক্রসিং।
মিরপুর-ফার্মগেট থেকে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন বাংলামোটর ক্রসিং থেকে বামে মোড় নিয়ে মগবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে চলাচল করবে অথবা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে বামে মোড় নিয়ে মিন্টো রোড ক্রসিং হয়ে চলাচল করতে পারবে।
গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং ও হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন কদম ফোয়ারা ক্রসিং-ইউবিএল ক্রসিং-নাইটিংগেল ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে যাবে। সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন মিরপুর রোড দিয়ে আজিমপুর ক্রসিং-চাঁনখারপুল ক্রসিং-বকশীবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।
বিকল্প পথ হিসেবে সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে বাটা সিগন্যাল ক্রসিং-কাঁটাবন ক্রসিং হয়ে ডানে-বামে মোড় নিয়ে হাতিরপুল অথবা নীলক্ষেত-পলাশী ক্রসিং দিয়ে চলাচল করা যাবে।
রমনা পার্ক (রমনা বটমূল) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো হলো— ১. নেভী গ্যাপ থেকে হলিফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত (রাস্তার উভয় পাশে এক লেনে) ২. মৎস্য ভবন ক্রসিং থেকে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত ও শিল্পকলা একাডেমি গলি (শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি) ৩. কাঁটাবন ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে পলাশী ক্রসিং পর্যন্ত (রাস্তার পশ্চিম পাশে এক লেনে) এবং ৪. আব্দুল গণি রোড ও সচিবালয় লিংক রোড (রাস্তার উভয়পাশে এক লেনে)।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর টিম মোতায়েন থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স মেডিকেল টিম, নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল মোতায়েন ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মোবাইল টয়লেট থাকবে।
পর্যটকদের সেবা প্রদানের জন্য টুরিস্ট পুলিশ সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
সম্মানিত নগরবাসীর অবগতির জন্য ডাইভারশন ও পার্কিং এর স্থানসমূহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার করা হবে।
পহেলা বৈশাখের দিনে বা পূর্ববর্তী সময়ে যে কোনো অপ্রীতিকর, সন্দেহমূলক ও অস্বাভাবিক গতিবিধি পরিলক্ষিত হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ডিএমপি কন্ট্রোলরুম (০১৩২০০৩৭৮৪৫, ০১৩২০-০৩৭৮৪৬) এর নাম্বারসমূহে এবং অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখের উৎসব সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন মো. সরওয়ার।
এ সময় ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে : ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার








