টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল বিকাল থেকে শুরু হয়ে এ আয়োজন চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।রোববার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। সেখানে লোকসংগীত, নৃত্য ও শিল্পচর্চার বিভিন্ন ধারার পরিবেশনা থাকবে। এছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ‘প্রত্যয় বাংলাদেশ’-এর পরিবেশনায় ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় বের করা হবে। সকাল ৮টা থেকে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেবে। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা অ্যাকাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শোভাযাত্রা শেষ হবে।এদিকে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নববর্ষের দিন শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। শোভাযাত্রা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রবেশ পথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে। শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে আশপাশ দিয়ে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করা যাবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।এছাড়াও পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোন ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। নববর্ষের শোভাযাত্রায় কোন ধরনের ইংরেজি প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো এবং আতশবাজি পোড়ানো যাবে না।বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কর্তৃপক্ষ।বর্ষবরণ শোভাযাত্রা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেইট, চারুকলা অনুষদ সম্মুখস্থ ছবির হাটের গেইট এবং বাংলা অ্যাকাডেমির সম্মুখস্থ রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেইট বন্ধ থাকবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। তাই এদিন ক্যাম্পাসে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। এরপর শুধু বের হওয়া যাবে। এদিকে, আগামীকাল ১৩ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোন ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোন ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেইট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেইট ব্যবহার করতে পারবেন।শোভাযাত্রার আয়োজনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি মোটিফ থাকবে। তা হলো-মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া।লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। প্রতিটি মোটিফেই প্রতিফলিত হবে বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার গভীর অনুষঙ্গ। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, এসো হে বৈশাখ এবং দেশাত্মবোধক সংগীত শোভাযাত্রার আবহকে আরও উদ্দীপনাময়, প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।
শোভাযাত্রায় ২০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন।
ঢাবিতে সকাল ৯টায় শুরু বর্ষবরণ বৈশাখী শোভাযাত্রা








