ঘাটে ভিড়তে ভিড়তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাহাজ কেন ডুবে গেল? বিষয়টি নিয়ে কিছু গঠনমূলক আলোচনা হওয়া দরকার। ২০২৬ সালে জামাতের নির্বাচনী জাহাজ ডুবে গেলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বলা যায় নানান কারণেই এখন দেশের একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই দলটির সবচেয়ে বড়ো শক্তি হচ্ছে নৈতিকতা। এক ইস্পাত কঠিন সততার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সততার মতো এতো বড়ো শক্তির ওপর যে দল দাঁড়িয়ে আছে, যা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই বিরল, সেই দল কী করে পরাজিত হয়? এ-এক বিরাট প্রশ্ন। সেই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো আজকের আলোচনায়।
আমাদের সুশীল সমাজ জামাতের সততা পছন্দ করেন কিন্তু তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করেন না। আমরা কি ভেবে দেখেছি এই সততা তারা পেল কোথায়? তাদের নৈতিক আদর্শের ভিত্তি হচ্ছে ধর্ম। জামাতের রাজনীতি থেকে ধর্মকে সরিয়ে ফেললে নৈতিকতাও চলে যাবে, তারাও আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির মত একটি অতি সাধারণ রাজনৈতিক দল হয়ে উঠবে। ধর্মই তাদের অসাধারণ বানিয়েছে। তাদের আদর্শের মূল এবং একমাত্র ভিত্তি হলো ধর্ম। বুঝে হোক, না বুঝে হোক পরকালে জান্নাত প্রাপ্তির আকাঙ্খা এবং দুনিয়ার অপকর্মের শাস্তি হিসেবে জাহান্নামে প্রবেশের ভয় তাদের বিশ্বাসে বদ্ধমূল। যারা নাস্তিক, যারা সংশয়বাদী, যারা বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ, যারা প্রচুর বই-টই পড়েন, তাদের কাছে পরকাল হাস্যকর মনে হলেও, তারাও ধর্মবিশ্বাসীদের সততাটুকু দারুণ পছন্দ করেন। আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে ধর্মই ছিল আধুনিকতা, ধর্মই ছিল আলো। হত্যা, ধর্ষণ, সামাজিক অরাজগতা থেকে ধর্মই মানুষকে সুপথে এনেছে। যখন বিজ্ঞান এলো, তখন মানুষ অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রতি অনুগত না থেকে প্রমাণসাপেক্ষ শক্তিকে বিশ্বাস করতে শুরু করলো। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে ধর্মশিক্ষার আলোতে স্নাত হয়েই তারা পরের ধাপ, বিজ্ঞানে উন্নীত হয়েছে। বিষয়টা হলো, শুদ্ধ ছন্দে কবিতা লেখার পরেই কেবল একজন কবি ফ্রি-ভার্সে ভালো কবিতা লিখতে পারেন। যে কবি শুদ্ধ ছন্দে কবিতা লিখতে পারেন না, ফ্রি ভার্সে তিনি শুধু গার্বেজই রচনা করবেন, সেগুলো কবিতা হয়ে উঠবে না।
যেহেতু ধর্ম ছেড়ে দিলে সততা চলে যাবে তাই জামাতকে এখন খুঁজে বের করতে হবে ধর্মকে রেখেই এই ভূখণ্ডের মানুষের প্রত্যাশা কী করে মেটানো যায়। দেশের মানুষ একটি সৎ রাজনৈতিক দলের শাসন চায়, এতে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু রাষ্ট্র-প্রশাসন প্রায় শতভাগ অসৎ। একটি প্রবাদ খুব প্রচলিত, আমরা সকলেই তা বলে থাকি, 'সরকারী অফিসের চেয়ার-টেবিলও ঘুষ খায়'। একবার আমার এক পুলিশ বন্ধু অসুস্থ হয়ে ৬ মাস হাসপাতালে ছিলেন। আমি জানি তার সংসার অবৈধ অর্থে ঝলমল করত এবং তার অসুস্থতাকালীন সময়েও সেই জৌলুশ ম্লান হয়নি। যেহেতু বন্ধু মানুষ, এইসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে কোনো দ্বিধা ছিল না। হাসপাতালে বসেই জিজ্ঞেস করি, এখন চলে কেমন করে? তখন তিনি আমাকে অবৈধ অর্থ প্রবাহের মেকানিজমটা খুলে বলেন। সরকারী অফিসের কর্মকর্তাদের বৈধ বেতনের মতো অবৈধ অর্থ প্রবাহের বিষয়টাও নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ঘটে। একজন উর্ধতন কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলেও তার ভাগের টাকা মাস শেষে তার ব্যাংক একাউন্টে পৌঁছে যায়। হয়ত উপস্থিত থাকলে কিছু বেশি পান কিন্তু অনুপস্থিত থাকলে কিছুই পাবেন না এমন ঘটনা ঘটে না।
আমি শুনেছি এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও চাঁদার টাকাকে এই সিস্টেমে নিয়ে এসেছেন। চান্দাপ্রবাহের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন তারা। দলে কার কী পদ সেই অনুযায়ী চাঁদার টাকা মাস শেষে তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে আসে। এ-কারণেই ক্ষমতাসীন দলের পদ পাবার জন্য কর্মীরা লক্ষ, কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। দলের পদও এখন বাজার, ঘাট ইজারা নেওয়ার মত লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।
দুর্নীতি যখন সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারের মতো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে তখন নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে যদি বিজয়ের পথে পা রাখা কোনো দলের শীর্ষ নেতা, যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, বলে বসেন, আমরা সরকার গঠন করলে প্রশাসন থেকে দুর্নীতি নির্মুল করবো, তখন সেই প্রশাসন কী করে এই দলকে সরকার গঠন করতে দেয়?
নৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে ভূখণ্ডের মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আচার, সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারাই হবে একটি রাজনৈতিক দলের বিচক্ষণ পদক্ষেপ। এই জায়গাটিতে জামায়াতে ইসলামী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তারা গোয়ারের মত শুধুমাত্র নৈতিক আদর্শটিকেই আকড়ে ধরে বসে আছে, যার ভিত্তি হচ্ছে ইসলাম।
যে দেশের রাষ্ট্রপ্রশাসনের প্রায় সকলেই দুর্নীতিগ্রস্থ সেখানে এই বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানে কৌশলী হতে হয়, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে, এইটুকু সমন্বয় তারা করতে পারেননি।
ধর্ম-শাসিত সফল দেশ পৃথিবীতে নেই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে সফল হলেও তাদের কথা বলার কোনো স্বাধীনতা নেই, এই জায়গায় বাংলাদেশের মানুষ কখনোই যেতে চাইবে না। ধর্ম-শাসিত সফল দেশ নেই একথা সত্য হলেও একথাও সত্য পৃথিবীর অধিকাংশ সফল রাষ্ট্রই ধর্মহীন নয়। ধর্মবিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত, রাষ্ট্র একটি সামষ্টিক বিষয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে সকলের জন্য কল্যাণকর আইন দ্বারা এবং তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় সংসদ দেশের মানুষের কল্যাণে প্রতিদিন আইন বদলাবে, নতুন আইন বানাবে, এই পরিবর্তনশীলতা সকল রাজনৈতিক দলকে ধারণ করতে হবে। সেখানে ধর্ম থেকে নেয়া আইনও থাকতে পারে, পৃথিবীর বহু দেশেই তা আছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যারা নেতা-কর্মী, তাদের অধিকাংশেরই স্ত্রী-কন্যা কর্মজীবী নারী অথচ দেশের নারী সমাজ বিশ্বাস করে জামাত ক্ষমতায় এলে নারীদের কাজ করতে দিবে না। পক্ষান্তরে বিএনপি প্রধানের স্ত্রী-সহ তাদের অনেক নেতার স্ত্রী কোনো চাকরি-বাকরি করেন না, অথচ তাদেরকে কেউ এই অপবাদ দিচ্ছে না। এর কারণ কী? এই অপবাদ জামাতকে ঘোচাতে হবে। নারীদের সীমিত কর্মঘন্টার কথা জামাতের আমীর কোন প্রেক্ষিতে বলেছেন এটা স্পষ্ট করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা আছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির পরে সন্তান বুকের দুধ খাওয়ার সময় পর্যন্ত যদি ৫ ঘন্টা কাজ করার কথা বলে থাকেন সেটা তো একটি ভালো উদ্যোগ, অথচ এটাকে দেশের নারীসমাজ কেন নেতিবাচকভাবে নিলো? এই রকম বিধান পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও আছে, খোদ জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়েই নারী কর্মীদের জন্য এই বিধান আছে যে তারা সন্তান জন্মের পর দুই বছর পর্যন্ত, সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর জন্য, সীমিত কর্মঘন্টা কাজ করে পূর্ণ বেতন পাবেন। এটা কিছুতেই নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়, বরং সহায়ক।
বাংলাদেশের মানুষ জামাতের নেতাকর্মীদের পোশাক-আশাক, চাল-চলন দেখে বিশ্বাস করতে পারে না এই লোকগুলো রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন। অথচ এই দলের প্রায় সকল নেতাকর্মীই উচ্চ শিক্ষিত এবং মেধাবী। পোশাক যোগ্যতার পরিচয় নয় কিন্তু একটি ভূখণ্ডের মানুষ যদি স্মার্টনেসের সংজ্ঞা পোশাকেই সীমিত করে ফেলে তখন গণমানুষের চাহিদার প্রতি সম্মান রেখে আপনাকেও নিজের পোশাক নির্বাচন করতে হবে। সবাই তো আর গান্ধী হতে পারবে না, যে নেংটি পরে, ছাগল নিয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে যাবেন।
ইসলামের কোথাও তো নিষেধ নেই শার্ট-প্যান্ট পরা যাবে না, স্যুট পরা যাবে না, জিন্স পরা যাবে না। জামাতের নেতা-কর্মীদের কেন সব সময় অমন ঢিলেঢালা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরতে হবে। আমি বলছি না কামাল আতাতুর্কের শাসনামলের মতো কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে, সবাইকে দাড়ি কামিয়ে ফেলতে হবে, হিজাব ফেলে দিতে হবে। তিনি তো আধুনিক তুরস্ক গড়ে তোলার জন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে প্রচলিত বর্ণমালাই তুলে দেন। আরবী হরফের বদলে রোমান হরফের প্রবর্তন করেন। জামাতের নেতাকর্মীরা যে ধরণের পোশাক পরেন এগুলোই যে একমাত্র ইসলামিক পোশাক সেই রকম কোনো প্রমাণও তো নেই। আপনারা দাড়ি রাখেন, ক্ষতি নেই কিন্তু সেই দাড়িটাকে একটু গুছিয়ে সুন্দর করে রাখুন, যাতে দেখতে স্মার্ট লাগে। মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা কী সুন্দর করে ছেটে দাড়ি রাখে। সত্যি কথা বলতে কী জামাতের নেতারা যেভাবে দাড়ি রাখেন, যেভাবে পোশাক পরেন, এই গেটাপের আড়ালে তাদের ক্ষুরধার জ্ঞান, বুদ্ধিদীপ্ত উচ্চারণ সব ঢাকা পড়ে যায়, দেখতেও অধিক বয়স্ক এবং কর্মঅক্ষম লাগে। দেখেন তারেক রহমান জামায়াতের আমীরের চেয়ে মাত্র ৭ বছরের ছোটো অথচ দেখলে মনে হয় তারেক রহমান আমীরের নাতির বয়সী। সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমীরকে দাদু বলে ডাকে। এটা নিশ্চয়ই প্রশংসা নয়। দেশের মানুষ যে পোশাক আধুনিক বলে মনে করে সেই পোশাকের প্রতি সম্মান জানানো একজন রাজনৈতিক নেতার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। শার্ট, স্যুট ভিন দেশী এই অজুহাত দেওয়া যাবে না। আপনারা কি ভিন দেশি ভাষায় ভিন দেশি টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন না? চায়নিজ প্লেটে বিলেতি কাটাচামচ দিয়ে খাচ্ছেন না?
সব সময় প্যান্ট-শার্ট বা স্যুট পরারও দরকার নেই। কিন্তু মাঝে-মধ্যে পরতে অসুবিধা কোথায়? পোশাকের ব্যাপারে ঢিলে-ঢালা পায়জামা-পাঞ্জাবিকে কেন আপনারা ইউনিফর্ম বানিয়ে ফেলবেন? বাংলাদেশের মানুষের রুচি ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পোশাকের বৈচিত্রের প্রতি আপনাদের যত্নবান হতে হবে।
পৃথিবীর বহু দেশেই এখনো ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৪৭ জন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, আজ অবধি একজনও নারী নির্বাচিত হননি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাই করেছেন মাত্র দুজন। কিন্তু ওরা এই কথা বলে না যে নারীরা প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। যদি কারো যোগ্যতা থাকে তাহলে তিনি হবেন, এই উদারতাটা থাকতে হবে।
ইসলামে নারী নেত্রীত্ব হারাম হলে আপনারা বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে কেন যোগ দিয়েছিলেন, এই প্রশ্ন আপনাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। আমার পরামর্শ হলো বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আলেম-ওলামারা বসে এই বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসেন। এটি ইসলামের মূল স্তম্ভ নয় যে নারী নেতৃত্ব মেনে নিলে ইসলাম ভেঙে পড়বে। আপনারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন দিয়েছেন, এই উদারতা নারীদের ক্ষেত্রেও উন্মুক্ত করুন।
বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের অলিন্দ নিলয় হচ্ছে একুশ ও একাত্তর। আবেগের এই জায়গাটিতে শর্তহীন, যুক্তিহীনভাবে একাত্ম হোন। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে একটি ভালো কাজ করেছেন, তবে শুধু প্রথা রক্ষার্থে নয় হৃদয় থেকে ভালোবেসে তা করুন। জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সাথে শিরকের কোনো সম্পর্ক নেই। সব কিছুকে ধর্মের পাল্লায় বিচার করতে গেলে ধর্মেরই ক্ষতি হয়। আমি যতদূর জানি ইসলাম একটি সহজ এবং উদার ধর্ম। ইসলাম জ্ঞানার্জনকে উৎসাহিত করে। জ্ঞানার্জনের প্রথম ধাপ হচ্ছে প্রশ্ন করা। সেই প্রশ্ন কেউ যদি আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়েও করে, করুক না, এতে রেগে যাওয়ার কিছু নেই।
আপনারা তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য রাজনীতি করেন। অন্য দলগুলোর মত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করেন না। নির্বাচনের আগে আপনারা যেসব ভালো কথা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেইসব প্রতিশ্রুতির বেশ কয়েকটা সরকারী দল নির্বাচনের পরে গ্রহণ করেছে। যেমন সাংসদগণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না, সরকারী প্লট নেবেন না, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন ইত্যাদি। যদি তারা সত্যিই এগুলো করে তাহলে তাদের পাশে থেকে আপনারা তাদের সহযোগিতা করবেন বলেই আমার বিশ্বাস। কিন্তু যদি তারা বিচ্যুত হয় তখন তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়াটাই তো বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব, আশা করি এই কাজ আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করবেন। সেজন্য ছায়া মন্ত্রীসভার যে ধারণার কথা বলেছেন সেটা দ্রুত করে ফেলুন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় না গিয়েও যে দেশের মানুষের সেবা করা যায় তা প্রমাণ করে দিন, যাতে ভবিষ্যতের বিরোধী দলের জন্য আপনারা দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।
সততার পাশাপাশি আপনাদের আরো একটি বড়ো শক্তি হলো আপনারা নির্লোভ, দলের মধ্যে পরিবারতান্ত্রিক সামন্ত-বন্দোবস্ত নেই। এই দুই শক্তির সমন্বয়কে ঠেকাবার সাধ্য তো কারো থাকার কথা নয়। দেশের মানুষের আবেগ, রুচি এবং চিন্তার সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে পারলে ২০৩১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জয় সুনিশ্চিত। মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে আপনাদের হাত ধরে বাংলাদেশ পেছনে যাবে না, শুধুই সামনের দিকেই অগ্রসর হবে।
হলিসউড, নিউইয়র্ক। ১০ মার্চ ২০২৬
জামাতের কিছু সমালোচনা -- কাজী জহিরুল ইসলাম

কাজী জহিরুল ইসলাম এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত






