বাংলাদেশ ০৬ নভেম্বর ২০২৬

নেলসন ম্যান্ডেলাকে বন্দি রাখা সেই কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )দক্ষিণ আফ্রিকাঃ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও তার সহযোদ্ধাদের বন্দি করে রাখা দক্ষিণ আফ্রিকার রবেন আইল্যান্ড কারাগার পরিদর্শন করেছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।পোস্টে কারাগার পরিদর্শনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রবেন দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। এটি একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার, যেখানে নেলসন ম্যান্ডেলা ও তার সহযোগী স্বাধীনতাসংগ্রামীরা ১৮ বছর বন্দি ছিলেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন এ পরিদর্শনের আয়োজন করে।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রয়েছেন। কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ যোগ দিতে তিনি দেশটিতে গেছেন।দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা অ্যাপারথেইডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে নেলসন ম্যান্ডেলাকে জীবনের ২৭ বছর কারাগারে কাটাতে হয়। ১৯৪০-এর দশকে তরুণ আইনজীবী হিসেবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। পরে আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন। সরকারের দমন-পীড়নের মুখে সহযোদ্ধাদের নিয়ে ‘উমখন্তো উই সিজওয়ে’ নামে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন গড়ে তোলেন।১৯৬২ সালে গ্রেফতারের পর ১৯৬৪ সালে ম্যান্ডেলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার কারাজীবনের ১৮ বছর কাটে রবেন আইল্যান্ডে। সেখানে নিম্নমানের খাবার, কঠোর শ্রম, নির্যাতন ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। মায়ের মৃত্যু এবং ছেলের শেষকৃত্যেও অংশ নিতে পারেননি তিনি।১৯৮৫ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, তার স্বাধীনতা দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের স্বাধীনতা থেকে আলাদা নয়।১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ২৭ বছর কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পান ম্যান্ডেলা। অ্যাপারথেইডের অবসানে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্কের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। পরের বছর নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন ম্যান্ডেলা।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner