গ্রাম বাংলা ০২ নভেম্বর ২০২৬

খুলনায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )খুলনাঃ খুলনার রূপসায় আঠারোবাঁকী নদী থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের মোছাব্বরপুর গ্রামের সিংহেরচর এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত দুজনের একজন মেহেদী হাসান (৩৫)। তিনি রূপসার রাজাপুর এলাকার আবদুল্লাহর ছেলে। একসময় জেলখানা ঘাটের মাঝি ছিলেন তিনি। অন্যজন রেজাউল করিম (৩০)।রূপসা থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, মেহেদী ও রেজাউল দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদী চোখের ওপর ভ্রুর পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আর রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ১ নভেম্বর ফ্রিজের কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে নগরের রায়েরমহল এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনার ঘটনা ঘটছে।এর ১৭ ঘণ্টা আগে রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরার দরগা কাশেমিয়া মসজিদ-সংলগ্ন এলাকার সড়কের ওপর থেকে শহীদুল ইসলাম নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য, তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে লাশ ফেলে রাখা হয়। শহীদুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি এবং একটি হত্যা মামলা আছে।২২ অক্টোবর ভোরে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি নামের ২৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের জেলা খুলনায় বেড়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ নানা অপরাধ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে হত্যাকাণ্ড, গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের কথা বললেও খুনের ঘটনা থামছে না। অধিকাংশ ঘটনার মূল হোতারা ধরা পড়ছে না। ফলে একটি হত্যাকাণ্ড থেকে আরেকটি হত্যার পটভূমি তৈরি হচ্ছে। এসব কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলাও করতে চাইছেন না।খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক-সম্পর্কিত বিরোধ রয়েছে। পুলিশ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু তাদের অনেকে জামিনে বেরিয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সাধারণ মানুষও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান না। এটিও বড় সমস্যা।’

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত খুলনায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে নগর ও জেলায় ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় আধিপত্য, পূর্বশত্রুতা জমি, ঘের, বালুর ব্যবসা, পরিবহন ও ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ আছে।পুলিশের তথ্য বলছে, খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে নগর এলাকার অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, খুলনায় সক্রিয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর ‘বি কোম্পানি’, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, হুমায়ুন কবিরের হুমা বাহিনী, শেখ সাইদুর রহমান ওরফে শাওনের টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান শেখের আরমান গ্রুপ, শাকিল শেখের শাকিল গ্রুপ এবং নাসিম গ্রুপ। এলাকাভিত্তিক কতিপয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতারাই নিজেদের স্বার্থে এসব সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন।এদের কেউ কেউ ভারত, সিঙ্গাপুর ও দুবাই বসেও গ্রুপ পরিচালনা করেন। নিজ দলের সদস্যদের মধ্য টেলিগ্রাফ গ্রুপে কথাবার্তা আদান-প্রদান করেন। এদের অনেকে বিভিন্ন সময় গ্রেফতারের পর বলেছেন, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার রেলের জমি দখল,ভারতীয় পণ্য চোরাচালান ইত্যাদি মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে গডফাদারদের ভাগ দিতেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটু চিংড়িঘের দখল করতেন। আর বর্তমান সময়ের সন্ত্রাসীরা গডফাদারদের তুষ্ট রাখতে মাদক ও অস্ত্র কারবার করেন।খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার খুলনার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হলেও আবার সব অপরাধ ঘটনার পেছনে একই কারণ নেই। কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ, কোথাও ছিনতাই, কোথাও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্বের অভিযোগও রয়েছে।খুলনার রূপসা, বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলাকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে উল্লেখ করে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, এছাড়া জেলার দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ। মাদক কারবারিদের মধ্যে লাভের ভাগাভাগি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকেও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner