শিক্ষা ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাবি শিক্ষকের ছেলের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে ছয়জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এবং একজন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে,গাড়ি চালানো শেখার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন সাদমান। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী রিকশায় ছিলেন, আর কয়েকজন এফবিএস ও মলচত্বরসংলগ্ন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দ্রুতগতিতে আসা গাড়িটি তাদের ধাক্কা দিলে সাতজন শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সাদমানকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।অভিযুক্ত সাদমান সাকিব বলেন, ‘শখের বশে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। আগে তেমন গাড়ি চালানো হয়নি। আমার সঙ্গে চালকও ছিলেন। কলা ভবন এলাকায় এক চক্কর দিয়ে এফবিএসের সামনে আসার সময় বেশি মানুষ দেখে ভয় পেয়ে যাই। এ সময় ব্রেক করতে গিয়ে ভুল করে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিই। এতে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে এবং সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। পরে চালকের সহায়তায় গাড়িটির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।আহত ছয় শিক্ষার্থী মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩২তম ব্যাচের। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। কয়েকজনের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অন্যদিকে, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শী মুসফিকুল ইসলাম বলেন, আহতদের মধ্যে একজনের মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাকে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় দেখা গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। হাড়ে ভাঙন আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে পরীক্ষার প্রয়োজন বলে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িতে থাকা দুজনকে মারধর করেন এবং গাড়িটি ভাঙচুর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।এদিকে, দুর্ঘটনার পর সাদমানকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এ দুর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেবো।’দুর্ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ‘দুর্ঘটনাটির খবরটি আমি শুনেছি। কয়েকজন শিক্ষার্থী রিকশা থেকে পড়ে গেছে। ওদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন যে কোনও বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয় নাই।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner