বাংলাদেশ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিউইয়র্কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এই উদ্দীপনা বিশেষভাবে দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সেখানকার সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।এসব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পরিচালনা করছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীগণ।তারা স্বাগত কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখেছেন।বিমানবন্দরে ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং দলের সাবেক নেতাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৪টি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিএনপি নেতারা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন সভায় সভাপতিত্ব করেন।যুক্তরাষ্ট্র ও নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেছে।প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পোস্টার ও ব্যানার টাঙিয়েছেন, এসবের মধ্যে তারেক রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নব গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার প্রভৃতি বিষয় গুরুত্ব পাবেএই সফরে দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সংকটটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানাবেন।বাংলাদেশ মনে করে যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান। জাতিসংঘের কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও জোরালোভাবে স্থান পাবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু কর্মসূচি ও ন্যায্য রূপান্তর’ (ক্লাইমেট অ্যাকশন এন্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন) শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি যোগ দেবেন।

পরদিন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায্যতার ওপর জোর দিয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তিনি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী এ ছাড়াও যৌথভাবে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক অসমতা সংকট মোকাবিলা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশগ্রহণ করবেন, পাশাপাশি তিনি মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক বাংলাদেশ আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন।মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফারি সেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।  এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।    এছাড়া, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সুযোগ, মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান এসব বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশের মাধ্যমে তার দাপ্তরিক জাতিসংঘ কার্যক্রম শুরু করবেন।পরবর্তীতে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন এবং রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে এই সফর বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে।এর মাধ্যমে তারেক রহমান তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম ১৯৯৩ সালে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner