বাংলাদেশ ৩০ আগস্ট ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা : হুমায়ুন

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকির মুখে পড়বে না এবং এর ফলে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাও সীমিত হবে না।তিনি আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ’র সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি অনন্য চুক্তি, যা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।’হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে। ‘আমরা বর্তমানে এ বিষয়ে আলোচনা করছি এবং সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এসব আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা ‘মক্কা চুক্তি’ ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এ পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এ চুক্তির অংশীদার হয়েছে।বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যোগ দিলে সম্ভাব্য কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ঢাকা সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি অনুসরণ করবে।তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যন্ত সমন্বিত ও নমনীয় পদ্ধতিতে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে।’হুমায়ুন কবির বলেন, এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখব’ এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগদান কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল ও সংকটপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতায় যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিকল্পগুলো সীমিত করবে না কিংবা অন্য কোনো জোট বা অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার পথও বন্ধ করবে না।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই অস্থিতিশীল বা সংকটপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি অন্য কোনো জোট বা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন না। এটি আপনার পরিসর সীমিত করে না।’হুমায়ুন কবির আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে, সেখানেই ঢাকা কাজ করে যাবে।তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই প্রধান লক্ষ্য, সেখানে বাংলাদেশ সবসময় উপস্থিত থাকবে।’গত সপ্তাহে ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ (সিএফএম) সভায় যোগ দিতে জেদ্দা সফরকালে হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।জেদ্দায় তার বৈঠকগুলোতে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তাঁর আলোচনাসঙ্গীদের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘ইতিবাচক, অত্যন্ত ইতিবাচক’।তবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি।তিনি বলেন, ‘তবে যখন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হবে, আমরা অবশ্যই আপনাদের জানাব।’হুমায়ুন কবির বলেন, চুক্তিটির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবের পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অভিজ্ঞতা।তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বড় অবদান রাখছে। শান্তি বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো ধারণা নয়; এ ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে এবং এ জন্য আমরা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্বে এটি (শান্তিরক্ষা কার্যক্রম) করে থাকি। তাহলে এখানে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃসমাজের জন্য কেন করব না?’তিনি বলেন, ‘আমরা এ ক্ষেত্রে নতুন নই, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও আমরা অনভিজ্ঞ নই। আমরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্যতম বৃহৎ কন্টিনজেন্ট পাঠিয়ে আসছি।’সৌদি আরব দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম হওয়ায় মুসলিম বিশ্বের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে এমন একটি উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ‘মোটেই খারাপ কিছু নয়’ বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগিয়েছে এবং আরও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে এগোয় তা দেখা যাক।জেদ্দায় বিভিন্ন বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে। বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করে।ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে তিনি কাতার, কুয়েত ও মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ‘সদিচ্ছার পদচিহ্ন’ এখন সামনের সারিতে রয়েছে। এ সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner