আনসার আহমেদ উল্লাহ : ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ড (ইউডব্লিউএস), লন্ডন ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিডিএসইউএলের নতুন নির্বাহী কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৮ আগস্ট ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহিম-এর সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির সদস্যরা, সাধারণ সদস্য এবং অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক হিমালয় রাজপাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদুল ইসলাম, ইফজাল আহমেদ, মেহেদি হাসান, ও মিনহাজ খান, ভলান্টিয়ার ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি অর্কো, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি কবিতা তুন উম্মি ঐশী, কালচারাল সেক্রেটারি জুই তালুকদার, জয়েন্ট সেক্রেটারি হালিমা তুস সাদিয়া বিদিশা ও সোহানা কবিরসহ অন্যান্য নির্বাহী ও সাধারণ সদস্যরা। এছাড়া অনুষ্ঠানে ইউডব্লিউএস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের লন্ডন ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি নাথান প্রাইস এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সদস্যরা নিজেদের পরিচয়পর্বে অংশ নেন এবং বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে বাসস্থান খোঁজা, চাকরি পাওয়া, একাকীত্ব, পড়াশোনার চাপ এবং নতুন দেশে নিজের অবস্থান তৈরি করার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে অনেক সদস্য তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, বন্ধুত্ব, পারিবারিক সহায়তা এবং যুক্তরাজ্যে নতুন সুযোগ পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহিম বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সংগঠনের প্রয়োজন শুধু সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হতে পারে পারস্পরিক সহযোগিতা, মানসিক শক্তি, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে আসার পর অনেক শিক্ষার্থী জীবিকা নির্বাহের জন্য সাময়িকভাবে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হন। বিশেষ করে নিম্নমজুরির কিছু কর্মক্ষেত্রে শিক্ষিত তরুণদের কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এসব অভিজ্ঞতাকে জীবনের স্থায়ী গন্তব্য হিসেবে না দেখে সুযোগ তৈরি হলে নিজেদের দক্ষতা, শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থান উন্নত করার চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রতি সম্মানজনক ও ইতিবাচক আচরণ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসার পেছনে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবার ও ব্যক্তিগত ত্যাগ রয়েছে। অনেকেই নিজেদের উপার্জনের একটি বড় অংশ দেশে পরিবারের কাছে পাঠান, যা পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি দায়িত্বশীল, দক্ষ ও ইতিবাচক বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে তোলাও শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সদস্যরা গান, তাৎক্ষণিক পরিবেশনা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের খাবার ও আপ্যায়ন, অতিথি ও সদস্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে খাবারের আয়োজন ও সমন্বয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ ইবজাল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয়ে সাধারণ সম্পাদক হিমালয় রাজপাল এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহেদি হাসান, জাহিদুল ইসলাম ও মিনহাজ খানসহ অন্যান্য সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা ছিল।
সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ভবিষ্যতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক বা কমিউনিটি-কেন্দ্রিক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।








