টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের (এমপিআই) সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এমপিআইয়ের দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচ প্রতিনিধিত্ব করেন।বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি, দুগ্ধ শিল্প, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উন্নত বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারের বিষয়টি তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আমদানি স্বাস্থ্যমান (আইএইচএস), স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা, পণ্যের মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বাংলাদেশে উন্নত খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ইলেকট্রনিক ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেশন (ই-ফাইটো) ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশ ুনিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সুসংগঠিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।এ সময় বাংলাদেশ রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে উত্তরণ-পরবর্তী ট্রানজিশন সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরাম প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড কৃষি ও খাদ্য বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে নতুন সম্ভাবনা








