টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক (রোকন) সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। আপিলটি সোমবার (১০ আগস্ট) আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে এ মামলার বিচার শুরু হলে তিনি প্রথম থেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে চলে বিচারকাজ।পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রথম রায় ছিল।মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয় আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে হওয়া আদালতের রায়ে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। প্রমাণের অভাবে একটি অভিযোগ খারিজ করে দেন আদালত। ফাঁসির রায় হওয়ার প্রায় এক যুগ পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানান, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।গত ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেন এবং আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।এখন মৃত্যুদণ্ডের ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আবুল কালাম আযাদের আপিলটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় উঠেছে।প্রসঙ্গত, দেশের বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পান মাওলানা আবুল কালাম আযাদ।
মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আবুল কালাম আযাদের আপিল








