কমিউনিটি ০৪ আগস্ট ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে চালু হলো ‘ইয়াং হেলথ হাব‘: শিশু ও তরুণদের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্য সহায়তার নতুন উদ্যোগ

post

টাওয়ার হ্যামলেটসের পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, তাদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য জনস্বাস্থ্যভিত্তিক সেবার নতুন পরিচয় হিসেবে চালু হয়েছে ‘ইয়াং হেলথ হাব’ (ওয়াই.এইচ.এইচ)। সম্প্রতি এক বিশেষ উদ্বোধনী ও উদযাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই নাম ও পরিচয় সবার সামনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অংশীজন, সহযোগী সংস্থা, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন এবং যেসব সেবাসমূহ পাওয়া যায়, সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।

ইয়াং হেলথ হাবের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য ও কল্যাণসেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘কম্পাস‘ এবং শিশু কল্যাণবিষয়ক সুপরিচিত দাতব্য সংস্থা ‘বারনারডোস্‘ যৌথভাবে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো টাওয়ার হ্যামলেটসের শিশু ও তরুণদের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত এবং প্রয়োজনভিত্তিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণসেবা নিশ্চিত করা।

কী ধরনের সেবা মিলবে?

ইয়াং হেলথ হাবের আওতায় শিশু ও তরুণরা পাবেন:

স্কুল স্বাস্থ্যসেবা (স্কুল হেলথ সার্ভিস)

যৌন স্বাস্থ্য (সেক্সুয়াল হেলথ) সংক্রান্ত সহায়তা

মাদকাসক্তি বা নেশাজনিত সমস্যা মোকাবিলায় পরামর্শ ও সমর্থন

স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক জীবনযাপনের জন্য তথ্য ও দিকনির্দেশনা

বিনামূল্যে ও গোপনীয় সহায়তা

প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় স্থানে এবং ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী সমর্থন।

সংস্থাটির মতে, ইয়াং হেলথ হাব শুধুমাত্র জনস্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি কেন্দ্র নয়; এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিশু ও তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবার উন্নয়ন করা হয়।

শিশু-কিশোরদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব

ইয়াং হেলথ হাবের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো ইকো নামের যুবসম্পৃক্ততা উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের মতামত সংগ্রহ করা হয় এবং তারা কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, সেগুলোর ভিত্তিতে সেবার মানোন্নয়ন করা হয়। হাব কর্তৃপক্ষের ভাষায়, শিশু ও তরুণদের কথা শোনা এবং সেই অনুযায়ী সাড়া দেওয়াই তাদের অন্যতম অঙ্গীকার।

ইতিবাচক ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য

ইয়াং হেলথ হাবের মূল লক্ষ্য হলো টাওয়ার হ্যামলেটসের শিশু ও তরুণদের জন্য একটি “ইতিবাচক ও সুস্থ ভবিষ্যৎ” গড়ে তোলা। কর্মসূচিটি শিশুদের আরও নিরাপদ, সুখী, সুস্থ এবং আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করবে। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বার্নারডো‘স জানিয়েছে, তারা ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিশু ও তরুণদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। অন্যদিকে কম্পাস ১৯৮৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও কল্যাণসেবা প্রদান করে আসছে এবং মানুষকে আরও সুস্থ, নিরাপদ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ইয়াং হেলথ হাব টাওয়ার হ্যামলেটসের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং শিশু ও তরুণদের স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, ইয়াং হেলথ হাব আগামী দিনে টাওয়ার হ্যামলেটসের হাজারো শিশু-কিশোর ও তাদের পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য সহায়তার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner