টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন কর ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব।এনবিআর কর্মীদের ভেতর থেকে সংস্থাটির প্রধান বেছে নেওয়ার যে দাবি ছিল, তাতে সায় দিয়েই আহসান হাবিবকে দায়িত্ব দিল সরকার।আয়কর ক্যাডারের ১৫ ব্যাচের এ কর্মকর্তা আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।এর আগে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক (ডিজি) ছিলেন আহসান হাবিব। বর্তমানে তিনি এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে বসানোর তথ্য দিয়েছে।প্রজ্ঞাপনে তাকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়নের কথাও বলা হয়েছে।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই সিআইসি প্রধানের দায়িত্ব পান আহসান হাবিব। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বড় শিল্প গ্রুপগুলোর ‘কর ফাঁকি’ সামনে আনতে থাকেন তিনি।মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতা নেওয়ার পর কর প্রশাসনে রদবদল আনে।ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সিআইসি থেকে শুরু করে একযোগে দেশের ৪০ জন কর কমিশনারকে বদলি করা হয়, যা এনবিআরের ইতিহাসে বিরল।এ রদবদলের অংশ হিসেবে তখনকার সিআইসির মহাপরিচালক খাইরুল ইসলামকে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে বদলি করা হয়। তার স্থলে বসানো হয় তৎকালীন ঢাকার কর অঞ্চল-১৫ এর কমিশনার আহসান হাবিবকে।
আহসান হাবিব কর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ পরিবারের ব্যাংক হিসাব তলব ও কর ফাঁকি উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করলে কিছু দিনের মাথায় তাকে গোয়েন্দা সংস্থায় পদায়ন করা হয়।আহসান হাবিব ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে পদোন্নতি পেয়ে এনবিআরের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।চব্বিশের ক্ষমতার পালাবদলের ধারায় এনবিআর চেয়ারম্যান করা হয় তখনকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খানকে; সেই সঙ্গে তাকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবও করা হয়েছে।প্রশাসন ক্যাডার থেকে নয়, প্রশিক্ষিত একজন কর কর্মকর্তাকেই তখন দেওয়া হয় চেয়ারম্যানের ভার।আবদুর রহমান নিজেও কর ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন; তবে তিনি পরবর্তীতে সরকারের উপসচিব হিসেবে চলে গেলে পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।এনবিআরে কাজ করেন মূলত কাস্টমস ও কর ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এই দুই ক্যাডার থেকে সচিব হওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই উপসচিব পুল হয়ে পরে সচিব হন। আবদুর রহমান খানও সেভাবেই হয়েছেন কর ক্যাডার থেকে আর বর্তমান অর্থ সচিব হয়েছে কাস্টমস থেকে।তবে সরাসরি রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় কাউকে চাইলে সচিব করতে পারে সরকার। এর আগে এনবিআর কর্মকর্তা কাস্টমস ক্যাডারের মইনুল খানকে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান করে সরকার; সেটিও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে।আবদুর রহমান খান এনবিআর দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটির নীতি ও বাস্তবায়ন দুভাগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ভাবনা ছিল তার পক্ষে সায় ছিল তার। এতে এনবিআরের মূল কর্মীদের পদোন্নতি ও পদায়ন সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা থেকে কর্মীরা আন্দোলনে নামলে এনবিআর চেয়ারম্যানও এর উত্তাপ থেকে বেরুতে পারেনি।তার বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর অঞ্চল, কাস্টম হাউজ ও ভ্যাট অফিসের কর্মীরা। পরে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হলে কর্মীরা কর্মে ফেরেন ঠিকই, তবে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব থেকে যায়। এ নিয়ে একের পর এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়; দুদকের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও ওঠে।সোমবার ছিল আবদুর রহমান খানের চাকরির শেষ কর্মদিবস। এদিন সরকার তার জায়গায় আহসান হাবিবকে বসানোর সিদ্ধান্ত জানাল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা আহসান হাবিব কর ক্যাডারের মেধাতালিকায় তার ব্যাচে দ্বিতীয় ছিলেন; পরে ছয় মাসের বিভাগীয় প্রশিক্ষণে তিনি প্রথম হন।সরকারের এ পদায়নের ক্ষেত্রে তার ক্যাডারেরই তিনজন জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাকে পেছনে ফেলেন তিনি; তিনজনই কর ক্যাডারের ১৩ ব্যাচের কর্মকর্তা।কাস্টমস ক্যাডারেও ১৩ ব্যাচের তিনজন কর্মকর্তা বর্তমানে এনবিআরের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব








