টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। অতীতের মতো দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। যারা জনগণের সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বুধবার (১৭ জুন) দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।তারেক রহমান বলেন, “অতীতে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমরা সেই সংস্কৃতি বন্ধ করতে চাই। জনগণের টাকা জনগণের জন্য ব্যয় হবে। যারা অর্থ পাচারের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন,সরকার এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ কিছু মহল এই বাজেটকে ‘চানাচুরের বাজেট’ কিংবা ‘গণবিরোধী বাজেট’ বলে আখ্যায়িত করছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে বাজেট সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে, সেটিকে কেউ কেউ গণবিরোধী বলে প্রচার করছে। জনগণের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা সফল হবে না।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় হবিগঞ্জের এক জনসভায় চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হলো।তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, চা-শ্রমিক পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।এ ছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দির ও গির্জার ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই তাঁর শেষ ঠিকানা। আমিও বলতে চাই, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা।তিনি আরও বলেন, “‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানের সঙ্গে আমি আরেকটি কথা যোগ করতে চাই, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিংয়ের তৃতীয় পর্যায়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি পাবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত ভাতার অর্থ তাঁদের হিসাবে পৌঁছে যায়।মির্জাপুর ইউনিয়নের উপকারভোগী রেসনা বেগম, নাসিমা বেগম ও লাবলী আক্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা আগে শুনলেও এত দ্রুত এটি হাতে পাবেন, তা ভাবেননি।তাঁরা বলেন, “প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা। সংসারের খরচ চালাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা খুবই আনন্দিত।সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগী নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পাশাপাশি বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।
জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী








