বাংলাদেশ ২০ এপ্রিল ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগের সুবর্ণা ঠাকুর

post

টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ির সদস্য সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)।তালিকায় তার নাম আসার পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ তিনি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।যদিও বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর সুবর্ণা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমতি না নিয়েই তার নাম রাখা হয়েছিল।কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়।গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই কমিটির তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম।সেই সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে যাচ্ছেন ত্রয়োদশ সংসদে।এ নিয়ে জেলাব্যাপী তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে।অনেকে বলছেন, ঠাকুর পরিবার গোপালগঞ্জের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবক। জেলার অন্তত ৩৫ শতাংশ ভোট নিয়ন্ত্রণ করে এই পরিবার। ঠাকুর পরিবারের অন্যতম উত্তরসূরী পদ্মনাভ ঠাকুরের স্ত্রী সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)। পদ্মনাভ ঠাকুর জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। অন্যদিকে, ঠাকুর পরিবারের আরেক উত্তরসূরী সুব্রত ঠাকুর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পুরো ঠাকুর পরিবারকে নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য আওয়ামী লীগ সুব্রত ঠাকুরকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়। আর পদ্মনাভ ঠাকুরের স্ত্রীকেও মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এমনই কিছু হয়তো বিবেচ্য হয়েছে।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা নানা ধরনের মন্তব্য করছেন।এমডি জাকির হোসেন নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে ডবল অভিনন্দন।’

অ্যাড. জাবের আমৈ মোল্লা লিখেছেন, ‘ঠাকুর সবার, তাই এ রকম হয়েছে।মো. শফিকুর ইসলাম লিখেছেন, ‘এইডা দিয়েই তো সব হিন্দু ভোট কেন্দ্রে নিয়েছে।ওই এলাকার জিএম গোলাম মোস্তফা নামে অবসরপ্রাপ্ত একজন কলেজ শিক্ষক লিখেছেন, ‘মানুষ মানুষের মঙ্গল চায় না। প্রতিহিংসার জ্বালা খুব কঠিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার স্বইচ্ছায় নাম ছিল না। অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না।যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন। এখন তিনি অস্বীকার করে থাকলে ঠিক করছেন না। নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য তিনি দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।’নাম আছে আ.লীগের সময়ের এপিপিরও একই তালিকায় নাম রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট মাধবী মারমারও।জানা যায়, মাধবী মারমা ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের আমলে দলীয় এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৫ সালে তিনি নোটারি পাবলিক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।সুবর্ণা ও মাধবী বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় বিষয়টি কৌশলগত সিদ্ধান্ত কি না—তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মনোনয়ন ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হতে পারে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে আগামী ১২ মে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে প্রতি ৬ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে হিসাবে, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছেন।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner