টিভি নাইনটিন নিউজ ডেস্ক ( অনলাইন )ঢাকাঃ খোলা চিঠি দিয়ে নিজেদের ‘বিদায়ের’ বার্তা দিয়ে গেলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও চার সদস্য।চিঠিতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর পাশাপাশি সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।আপনারা কী তাহলে পদত্যাগ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সদস্য নূর খান গণমাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগের প্রশ্নটা কেন আসছে। খোলা চিঠিতে পদত্যাগের কোনো বিষয়ই আনিনি। খোলা চিঠিতে যে সমস্ত কথা সংসদে আলোচনা হয়েছে, আমরা সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছি।তিনি বলেন, আমরা পদত্যাগ করিনি ও সরকারও আমাদের পদত্যাগ করতে বলেনি। তবে যে আইনের বলে আমরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি সেটা যেহেতু রহিত হয়েছে (সংসদে বিল পাস) তাহলে তো আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেই। এটা যদিও এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা খোলা চিঠিটা দিয়েছি জনগণ ও সরকারের উদ্দেশ্যে।এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত, বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় চালু হলো।চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার একেবারে শেষ দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দেন। কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা গুম কমিশনের সদস্য মো. নূর খান, নাবিলা ইদ্রিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান।এদিকে, খোলাচিঠিতে এই অধ্যাদেশ বাতিলে নতুন সরকারের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– “এখন আমাদের কী হবে?” তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।’বলা হয়, আমরা পাঁচজন সদ্যবিদায়ী মানবাধিকার কমিশনার। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আমাদের কর্মজীবন মানবাধিকার সুরক্ষায় নিবেদিত ছিল। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দরুন, ভুক্তভোগীদের বেদনা, আইন প্রয়োগকারীদের দৈনন্দিন প্রতিকূলতা এবং আইনাঙ্গনের জটিলতার সাথে আমরা সুপরিচিত। তাই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।
মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ, দিলেন খোলাচিঠি



-(1)-69a26abf8bc66.jpg)




