কমিউনিটি ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পূর্ব লন্ডনে অনুষ্ঠিত হলো ‘একাত্তরের গল্প’ শীর্ষক স্বাধীনতা দিবসের স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

post

টিভি নাইনটিন লন্ডন ডেস্ক : বাংলাদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ‘একাত্তরের গল্প’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল পূর্ব লন্ডনের মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মানবাধিকারকর্মী, যুদ্ধকালীন সময়ে শরণার্থী শিবিরে কাজ করা ব্যক্তিরা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং প্রবাসী সাংবাদিকরা।

ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি আকরামুল হুসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত ব্রিটিশ নার্স ভ্যাল হার্ডিং। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং তরুণ বয়সেই তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ঘুরে আহতদের সেবা দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যাশিত সম্মান পাননি। দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্বাধীনতার স্বপ্ন পূর্ণতা পায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মারক টিকিট প্রকাশের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারকে ধন্যবাদ জানান।#

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন কামাল বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ইতিহাস জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অক্সফামের সঙ্গে কাজ করা এবং বিবিসির সাবেক সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশান্তরি হয়েছিলেন। স্বাধীনতার সংবাদ পেয়ে শরণার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে দেশে ফিরে আসেন। তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে এসেছিলেন এবং রয়েল মেইল বিনা খরচে সহায়তা সামগ্রী ভারতে পাঠিয়েছিল।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সিনিয়র সাংবাদিক মুসলেহ উদ্দিন, শেখ মহিতুর রহমান বাবলু, আনোয়ারুল ইসলাম অভি এবং চৌধুরী আব্দুল কাদির মুরাদসহ অনেকে

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য মো. বাবুল হোসেন ও আকবর হোসেন একাত্তরের নির্মম স্মৃতিচারণ করেন। সিনিয়র সাংবাদিক রহমত আলী তার লেখা বই থেকে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহাদ চৌধুরী বাবু, ট্রেজারার মো. আব্দুল হান্নান এবং এক্সিকিউটিভ সদস্য সরওয়ার হোসেন ও এনাম চৌধুরী।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা পর্ব শেষে ইভেন্ট সেক্রেটারি রুপি আমীনের পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত ও পরিবেশনায় অংশ নেন উর্মি মাজহার, মিসবাহ জামাল, মামুনুর রশিদ, জিয়াউর রহমান সাকলাইন, মোস্তফা কামাল মিলন, হিমিকা ইমাম, পলি রহমান, হাফসা নুর, শামিমা মিতা, নিলুফার ইয়াসমিন, সুয়েজ মিয়া সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানটি প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner