আন্তর্জাতিক ২০ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ চায় পেন্টাগন

post

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় মেটাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর-পেন্টাগন। প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।বিশাল অঙ্কের এই বাড়তি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব, প্রতিনিধি পরিষদ বা কংগ্রেসের কাছে গেলে যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতাদের তীব্র বিরোধিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রস্তাবিত এই তহবিলের পরিমাণ বর্তমান বিমান হামলার খরচকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ফলে ফুরিয়ে আসা নিখুঁত নিশানার গোলাবারুদ নতুন করে সংগ্রহ করতে এই বড় অঙ্কের প্যাকেজ চেয়েছে প্রতিরক্ষা বিভাগ।তবে হোয়াইট হাউজ শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের কাছে কতটুকু অনুমোদনের জন্য চাইবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু কর্মকর্তা পেন্টাগনের এই অনুরোধ পাসের বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গত কয়েক সপ্তাহে প্রতিরক্ষা বিভাগ বেশ কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেছে।এই তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন যেমন সীমিত, তেমনি ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এর কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের পক্ষে ইঙ্গিত দিলেও সিনেটের ৬০ ভোটের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও কোনও স্পষ্ট আইনি পথ দেখাতে পারেননি।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে কংগ্রেসের অনুমোদিত ১৮৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়েরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি। অথচ ইরান যুদ্ধের খরচ দ্রুত বাড়ছে; কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম সপ্তাহেই এই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পরপরই সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে এই অতিরিক্ত তহবিলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে প্রশাসন। পেন্টাগনের ভেতরে এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ। তিনি মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি সম্প্রসারণ এবং মূল অস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো গোলাবারুদের ঘাটতি মেটানো এবং উৎপাদন ত্বরান্বিত করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শ্রমিক, স্থাপনা এবং উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন বাড়ানো সময়সাপেক্ষ হবে।

আরো পড়ুন!

Sidebar Banner
Sidebar Banner